মেয়েটির নাম সিনথিয়া। কলেজ পেরিয়ে ভার্সিটিতে পা দিয়েছে। নতুন জায়গা নতুন লাইফ সব মিলিয়ে মাতিয়ে থাকার পালা। আজ ভার্সিটির প্রথম ক্লাস। আসলে ক্লাস না যাকে নবীন বরন বলে। সব মিলিয়ে পুরো ক্যাম্পাস মুখরিত। কত ছেলে-মেয়ে'ই এসেছে। সবাই সবার সাথে পরিচয় পর্ব শেষ করল। সিনথিয়াও তাই করল।
প্রিয়২৪.কম
.
সিনথিয়া দেখতে বেশ সুন্দর। আমার মনে হচ্ছে পুরা ক্যাম্পাসের মধ্যে উত্তম। খালি চেহারার দিক দিয়ে নয় লেখাপড়া ও অচার ব্যবহারের দিক দিয়েও উত্তম। চলতে থাকে তার ভার্সিটি জীবন। পেতে থাকে একের পর এক প্রপোজাল। কিন্তু সিনথিয়া সব গুলোয় না করে দেয়। সবাই হতাশ হয়ে ফিরে যায়। আজ কাল সিনথিয়ার কাছে এই প্রপোজাল বিষয় টা খুব সাধারন হয়ে গেছে।
.
হঠাৎ একদিন।
-এই যে শুনুন? (অভ্র)
-জ্বী । আমাকে কিছু বলছেন? (সিনথিয়া)
-হ্যা । আপনাকেই বলছি।(অভ্র)
-আপনাকে তো ঠিক চিনলাম না? (সিনথিয়া)
-আমার নাম অভ্র। আপনি যে ফ্লাটে থাকেন সেই ফ্লাটে নতুন আসছি। আপনার নাম টা জানতে পারি? (অভ্র)
-আমি সিনথিয়া। (সিনথিয়া)
.
নিজের নাম টা বলে সোজা হেটে নিজের ক্লাসে চলে গেল। অভ্র,সিনথির ভার্সিটির সিনিয়র স্টুডেন্ট। তার ডিপার্টমেন্টের ১ ইয়ার উপরে পড়ে। দেখতে শুনতে ভালই। ছাত্র হিসাবেও খারাপ না অভ্র। ইয়ার মেটের কাছে অভ্র হল একজন হিরো। অভ্র সবার কাজেই সাহায্য করবে। প্রেম থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকার সামাজিক কাজ কর্মে। তার এই কাজ কর্মের জন্যে সবাই তাকে শ্রদ্ধা ও সন্মান করে।
প্রিয়২৪.কম
.
অভ্র :- এই যে , সিনথিয়া একটু দাড়ান ।
সিনথিয়া :- হ্যা । বলেন কি বলবেন !
অভ্র :-কেমন আছেন ?
সিনথিয়া :- আলাহামদ্দুলিল্লাহ। আপনি কেমন আছেন ?
অভ্র :-আলাহামদ্দুলিল্লাহ। আপনাকে একটা কথা বলব বলব বলে অনেক দিন বলা হয় না।
সিনথিয়া :- হ্যা । বলেন কি বলবেন ?
অভ্র :- তোমাকে যেদিন প্রথম দেখেছিলাম নবীন বরনে। কালো ড্রেস পড়ে এই গাছের নিছে দাড়িয়ে ছিলে সেদিন তোমাকে খুব পছন্দ হয়ে যায়, শুধু পছন্দ নয় তোমাকে আমি আমার অজান্তে খুব বেশি ভালবেসে ফেলেছি। আসলে আমি তোমাকে ভালবাসি,!
সিনথিয়া :স্যরি , ভাইয়া । আমি আপনাকে ভালবাসি না। আমি চললাম।
.
না ! বলে দিয়ে চলে যায় সিনথিয়া। আজ প্রথম নয় এটা নিয়ে আগেও অনেক প্রপোজ পেয়েছে সিনিথিয়া। তাই স্বাভাবিক ভাবে বাসায় চলে আসে। অন্য দিকে অভ্র ও সিনিথিয়াকে খুব ভালবাসে। জীবনের প্রথম প্রেম যাকে বলে। আর যাই হোক প্রথম পছন্দের মানুষকে কখনো ভুলা যায় না।যত দিন যাচ্ছে অভ্র ততই সিনথিয়ার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ছে। এক এক করে প্রায় ৮ থেকে ১০ বার প্রোপোজ করল। কিন্তু সেই একই কথা তাকে সিনথিয়া কখনেই ভালবাসতে পারবে না। এতেও অভ্র হতাশ হল না। সে নিজেকেই বুঝাচ্ছে অভ্র শান্ত হ অপেক্ষার ফল মিষ্টি হয়, তুই অপেক্ষা কর সামনে ভাল কিছু পাবি। এভাবে নিজেকে শান্তনা দিতে থাকে।
এভাবে দেখতে দেখতে এক বছর পার হয়ে গেলো। কিন্তু সিনথিয়া তার স্থান থেকে একটুও সারা দিচ্ছে না। এই প্রযন্ত ১৫ বার প্রপোজ করছে কিন্তু প্রত্যেক বার সেই একই কথা আমি কাউকে ভালবাসতে পারব না। এর থেকে একটা কথাও বেশি বলে না।
প্রিয়২৪.কম
.
-দ্বারাও সিনথিয়া । (অভ্র)
-হ্যা বলুন । কি বলবেন? (সিনথিয়া)
-ভালবাসি তোমাকে?
-ভালবাসা বলে কিছুই নেই। আর আমি এই সবে বিশ্বাসি না।
-কিন্তু কেনো? দীর্ঘ এক বছর যাবৎ তোমার পিছনে কুত্তার মত লেগেই আছি এর পর ও কি তোমার মনে হয়। তোমাকে ভালবাসি না । এর পরেও কি বলবা আমাকে বিশ্বাস কর না?
-আছে এর পিছনে নিশ্চয় কারন আছে?
-কি কারন বল আমি সব শুনতে চাই।
-বলব তবে একটা শর্ত আছে ।
-কি শর্ত?
-শুনার পর আর আমার পিছু নিবেন না আর কখনো বলবেন না ভালবাসি?
-আগে বল তারপর ভেবে দেখব?
-তাহলে শুনেন। সবে মাত্র ইন্টার প্রথম ইয়ারে কলেজে যাওয়া শুরু করছি। কলেজে গিয়েই আবির নামের একটা ছেলের সাথে পরিচয় তারপর বন্ধুত্ব, সেই বন্ধুত্ব থেকে গড়ে উঠে আমাদের ভালবাসা। খুব ভালই চলছিল। আমাদের সম্পর্ক। অনেকেই বলত আবির ছেলেটা খারাপ কিন্তু কখনো বিশ্বাস করতাম না। ভাবতাম আমাদের দুই জন কে এক সাথে দেখে তাদের জেলাস ফিল হয় তাই বদনাম বলে। আবির কে খারাপ বলার অপরাধে আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড শিহাবের সাথে সম্পর্ক নস্ট করে দেই। তাকে কলেজের মাঠ ভর্তি মানুষের সামনে অপমান করি। এভাবে আমাদের দিন ভালই যাচ্ছে।
প্রিয়২৪.কম
আমাদের কলেজে একটা অনুষ্ঠান। সেদিন দুপুরে আবির বলল , চল রাকিবের বাসায় লাঞ্চ করব । তার কথা মত চলে গেলাম। শুধু লাঞ্চ তো করেই চলে আসব। এতে ভাবার কি আছে। চলেও গেলাম। গিয়া দেখি পুরা বাসা খালি আবির আর আবিরের দুইটা বন্ধু। মনে করলাম দুপুর সবাই হয়তো সবার রুমেই আছে। ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে যাব তখন আবির বলল সিনথিয়া একটু ভিতরে আসবা। তার কথা মত চলেও গেলাম। গিয়ে যা করল তার জন্যে মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। এক প্রকার জোর করেই। তার পরে তার দুই ফ্রেন্ড ও আমাকে ছাড়ল । না হায়ানার মত ঝাপিয়ে পরে আমার উপরে। আর অবশেষে বলল , যদি এই সব কাউকে বলিস তাহলে যা যা করছি সব ভিডিও ইন্টারনেটে ছেরে দিব। কিছু না বলে চলে আসলাম খুব কস্ট হচ্ছিল। ওখান থেকে আসতে । তাও চলে আসছি আর তারপর বেঁচে থাকার ইচ্ছা ছিল না। বিভিন্ন ভাবে মরতেও গেছিলাম বাট ব্যার্থ হয়েছি।
এবার বলুন আমার মত মেয়েকে ভালবাসবেন। ( সিনথিয়া)
-আমাকে বিয়ে করবে , সিনথিয়া? ( অভ্র)
বিয়ের কথাটা শুনে আকাশ থেকে পরল সিনথিয়া। কি বলবে বুঝতে পারছে না।
-করুনা করছেন বুঝি?
-না আমি তোমাকে ভালবাসি শুধু তোমাকে চাই আর কিছু চাই না। অতীতে কি আছে জানতে চাই না। আমি তোমাকে এই মূহর্তে বিয়ে করতে চাই আর কিছু শুনতে চাই না।
.
অভ্রের কথা শুনে সিনথিয়া কেঁদে দিল। এত দিন ভাবত সব পুরুষ খারাপ । তারা শুধু নারীদের শরীরকে ভালবাসে তাদের কে না। কিন্তু অভ্রকে দেখে তার ধরনা উল্টা হয়ে গেলো।
অভ্র আর সিনথিয়া প্রথমে কাজী অফিসে গিয়ে বিয়া করে তার পর তাদের ফ্যমিলিকে জানায়। তাদের দুই ফ্যামিলি তাদের সম্পর্ক মেনে নিয়েছে। আজ তারা খুব সুখে শান্তিতে জীবন যাপন করছে।