Home »
ভালবাসার গল্প - Bangla Love Story
» Valobasha Ki Sekha No Jay ভালোবাসা কি শেখানো যায়?
Valobasha Ki Sekha No Jay ভালোবাসা কি শেখানো যায়?
হ্যাঁ, অন্তত তেমনটাই বলছে দ্য নিউ কিউপিডস। প্রযুক্তি-সহায়তাপ্রাপ্ত ডেটিংয়ের যুগে ম্যাচমেকাররা দুজন লোককে কাছাকাছি আসার সুযোগ করে দেওয়ার চেয়েও বেশি কিছু করছেন। ম্যাচমেকাররা দুজন মানুষকে পরস্পরের প্রেমে পড়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করছেন। কিন্তু আপনার সংশয়ী মনটি হয়তে বলছে, “ভালোবাসা কি সত্যিই কাউকে শেখানো যায়?” দ্য নিউ ম্যাচমেকারস বলছে, হ্যাঁ, যায়। পেশাদার ম্যাচমেকার জ্যাসবিনা আহলুওয়ালিয়া ব্যাখ্যা করে বলেন, “যেসব অবিবাহিতরা আমার কাছে আসেন তারা পেশাগত জীবনে উচ্চমাত্রায় সফল। এবং নিজেদের পেশাগত উন্নতিতে সাফল্য অর্জনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা ভালোই আছে। কিন্তু তারা ভুলে গেছেন কী করে প্রেমে পড়তে হয়। যা মানবজীবনের একটি মৌলিক বিষয়। আর আগে এ বিষয়ে কোনো অনুষ্ঠানিক শিক্ষারও দরকার হতো না।” ১. কিন্তু দিন বদলে গেছে। মানুষও বদলে গেছে। এখন হলো তাৎক্ষণিক ডেটিং, তাৎক্ষণিক দৈহিক সম্পর্ক, তাৎক্ষণিক সম্পর্ক ভাঙা এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার যুগ। লোকে এখন তাদের পেশাগত জীবন নিয়ে এতবেশি মগ্ন থাকেন যে, বয়স ৩৫ পেরিয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই তারা জেগে ওঠেন। এবং বুঝতে পারেন জীবনের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে তারা এতদিন অবহেলা করে এসেছেন। আর তা হলো, ভালোবাসা, একটি স্থিতিশীল সম্পর্ক, এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যার সঙ্গে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কাটিয়ে দেওয়া যাবে। যিনি তাদের সুখ ও দুঃখের মুহূর্তগুলোতে হাসি ও কান্না করবেন। স্থিতিশীল ভালোবাসা অর্জন এখন বেশ কঠিনই হয়ে গেছে বটে… ২. আধুনিক ম্যাচমেকারসদের ভূমিকা এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ চাহিদাপূর্ণ অবস্থানে আছে। উদাহরণত, উচ্চ আর্থিক ক্ষমতাসম্পন্ন নির্বাহীরা এখন সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় করছেন নিজেদের আত্মার সঙ্গীকে খুঁজে বের করার জন্য। লিংক্স ডেটিংয়ের সিইও এবং প্রতিষ্ঠাতা অ্যামি অ্যান্ডারসন যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির কিউপিড বা প্রেমের দেবতা হিসেবে পরিচিত। পেশাদার ম্যাচমেকিং এখন খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মনে হচ্ছে বেশির ভাগ তরুণ পেশাদারই এখন তাদের জীবনের বিভিন্ন দিক আউটসোর্সিং করতেই আরাম বোধ করছেন। এর মধ্যে রয়েছে, সুস্থতার প্রশিক্ষক থেকে শুরু করে, পুষ্টিবিদ,ওয়ার্ডড্রোব স্টাইলিস্ট, হাউজ ক্লিনার, শেফ ও গাড়িচালক নিয়োগ দেওয়া। ফলে এমন কাউকে কেন ভাড়া করাযাবে না যিনি আপনাকে শিখিয়ে দেবেন কী করে প্রেম করতে হয়? আমি আমার ক্লায়েন্টদেরকে কীভাবে প্রেমের ছলাকলা, রোমান্স এবং কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তুলতে হয় তা শেখাই। এইদক্ষতাগুলো কাউকে প্রেমে পড়ার খুব কাছাকাছি নিয়ে আসে। আহলুওয়ালিয়াবলেন, “আপনি আমাদের মতো ম্যাচমেকারদের ড. হিচ বা দ্য নিউ কিউপিড বলে ডাকতে পারেন।” আহলুওয়ালিয়া আরো বলেন, “নিঃসঙ্গ ব্যক্তিদেরেকে পরস্পরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে কী করে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তুলতে হবে তা শেখানো, সঙ্গী বা সঙ্গিনীর ভালোবাসা প্রকাশের ভাষা বুঝা, সঠিক উপহার দেওয়ার বিষয়গুলোও শেখাই। এভাবে কোনো যুগলকে আমি একটি সফল সম্পর্কের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাই। যা এমনকি পরে বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়। সংক্ষেপে আমি নিঃসঙ্গ লোকদেরকে স্থিতিশীল এবং পারস্পরিক-পরিপূরক ভালোবাসার সম্পর্ক খুঁজে পেতে সহায়তা করি।” ৩. অনলাইনে ডেটিং এবং প্রেমের অসংখ্য অ্যাপস এর ছড়াছড়ির কারণে যে বিভ্রান্তি, হতাশা এবং তিক্ত অভিজ্ঞতা হয় তার ফলেই ম্যাচমেকারদের রমরমা ব্যাবসা জমে উঠছে। অনলাইনে পছন্দের অসংখ্য সুযোগ আছে। কিন্তু বেশির ভাগ লোকই যাদেখেন তাতে তারা খুব একটা সুখী হন না। ড. জোৎস্না খান্না, ৩৫, বলেন, “আমি কিছু অনলাইন ওয়েবসাইট ঘাটাঘাটি করে পুরোপুরিই হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। পুরুষরা এসব ওয়েবসাইটকে শুধু একরাত্রের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে। আমি অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলাম। এরপর একটি ম্যাচমেকার সাইটে নাম লিখিয়ে গত চার মাসে আমি চারজন প্রত্যাশিত পুরুষের দেখা পাই।” দিনশেষে লোকে আসলে একটু পুরনো ও ব্যক্তিগত কিছুর জন্যই তীব্রভাবে কামনা প্রকাশ করে। আর তা হলো একটু মানবিকতার ছোঁয়া। আর কোনো ডেটিং অ্যাপ বা অনলাইন ডেটিং সাইট এই মানবিকতার ছোঁয়ার উৎসটুকু সরবরাহেই ব্যর্থতা প্রদর্শন করছে। এ ছাড়া ভুয়া প্রোফাইল এবং ডেটিং ও ম্যারেজ ওয়েবসাইটগুলোতে মিথ্যাচারের কারণে পুরনো ঘটকালি ব্যবস্থায়ই ফিরে যেতে হচ্ছে। আর ঐতিহ্যবাহী এবং পুরনো ওই ঘটকালি ব্যবস্থারই নতুন রূপ ম্যাচমেকারস। তবে তা ফিরে আসছে নতুন নতুন দক্ষতার সমন্বয়ে। ভারতের শিল্পপতি ও যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যপ্রযুক্তিশিল্প সিলিকন ভ্যালির পেশাদারদের জন্য যথাযথ জীবন সঙ্গী বা সঙ্গিনী খুঁজে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত সৌরভ গোস্বামী বলেন, “পরিবর্তিত প্রেমের দুনিয়ায় তরুণরা নিজেরা বা বাবা-মায়েরাও এখন আর তাদের সন্তানদের জন্য যথাযথ জীবন সঙ্গী বা সঙ্গিনী খুঁজে বের করার প্রয়োজনীয় বুঝ বা সম্পদ ধারণ করেন না। আমরা ভালোবাসার জনকে খুঁজে বের করার এই যাত্রাকে আরো সহজ করে তুলি।”” সৌরভ গোস্বামীর ফি ৩৫ হাজার রুপি থেকে শুরু করে কাজের ধরনের ওপর নির্ভর করে আরো বেশিও হয়। একভাবে দেখতে গেলে আধুনিক ভালোবাসার এই স্থপতিরা পুরনো দিনের পারিবারিক পণ্ডিতের ভূমিকা পালন করছেন। আগের দিনে ছেলেমেয়েরা প্রাপ্তবয়স্ক হলে পারিবারিক পণ্ডিতকেই দায়িত্ব দেওয়া হতো তাদের বিয়ে-শাদি করানোর। তাদের ওই দায়িত্বের কলেবর এখনকার যুগে এসে আরো বিস্তৃত হয়েছে। গভীর প্রজন্মগত ব্যবধানের কারণে এখন আর ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের জন্য তাদের বাবা-মায়েদের পছন্দ খুব একটা কার্যকর হয় না। অথবা যথাযথ কোনো একজনকে খুঁজে পেতে এখন অনেক দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ২০১৬ সালে এসে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপনের একটি নতুন উপায় হলো একজন ম্যাচমেকার ভাড়া করা। ম্যাচমেকাররা তাদের ক্লায়েন্টদেরকে নিজেদের সেরা সংস্করণে উপস্থাপন করেন। যাতে তারা যে রকম ভালোবাসার অনুসন্ধান করছেন তা খুঁজে পেতে পারেন। সূত্র : টাইমস অফ ইন্ডিয়া