অনলাইনে আর্থিক লেনদেন ও মূল্য পরিশোধের
আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান পেপ্যাল শিগগিরই
বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।
পেপ্যাল বাংলাদেশে সেবা চালু করলে সেটা দেশের
প্রযুক্তি অঙ্গন এবং প্রযুক্তিপ্রেমী প্রজন্মের জন্য
সবচেয়ে বড় সুসংবাদ হয়ে আসবে। এই বছরের মধ্যেই
পেপ্যাল নিজেদের কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন বলেও
অনেক প্রযুক্তিবিদ আশা করছেন।
দেশের ফ্রি-ল্যান্সাররা দীর্ঘদিন ধরে পেপ্যালের জন্য
দাবি জানিয়ে আসছেন। বিশ্বের ১৯৬টি দেশের মধ্যে
১৯০ টি দেশেই পেপ্যাল তাদের সেবা দিচ্ছে। দক্ষিণ
এশিয়ায় শুধুমাত্র বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান
দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই সেবা থেকে বঞ্চিত। বাংলাদেশ
এই সেবার আওতায় এলে ফ্রি-ল্যান্সাররা তাদের
উপার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার অর্থ অতি সহজে দেশে
আনতে পারবেন। তাছাড়া ঘরে বসে ইন্টারনেটের
মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের রাস্তা খুলে যাবে।
২০১১ সাল থেকেই পেপ্যালকে বাংলাদেশে নিয়ে
আসতে কাজ করে যাচ্ছেন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের
কর্মকর্তারা। ২০১২ সাল পর্যন্ত পেপ্যাল না আসলেও
২০১৩ সালের মধ্যে পেপ্যাল চালু হবে বলেও বক্তব্য
দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব
ওয়াজেদ জয়। ২০১৩ সালে একই কথা সিলেটে ই-বানিজ্য
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঘোষণা দিয়েছিলেন
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। ২০১৪ সালেও তথ্য
উপদেষ্টা পেপ্যাল আসার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন।
কিন্তু নানা জল্পনা কল্পনা থাকা স্বত্তেও ২০১৫ সালেও
বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরু হয়নি।
২০১৬ সালে পেপ্যাল আসা প্রায় নিশ্চিত হয়েছে। এ
ব্যাপারে তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক
বাংলামেইলকে জানান, আমাদের ফ্রিল্যান্সারদের
দীর্ঘদিনের দাবি পেপ্যালকে বাংলাদেশে নিয়ে
আসা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক
উপদেষ্টা সবীজ ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে ও
তত্ত্বাবধানে আমরা দীর্ঘদিন ধরে পেপ্যালের সঙ্গে
আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আলোচনায় অনেক অগ্রগতি
হয়েছে। আমরা আশাবাদী কিছুদিনের মধ্যে হয়তো একটা
সুখবর দিতে পারবো।
ইতোমধ্যে সোনালী ব্যাংকের সাথে এমওইউ চুক্তি
স্বাক্ষর হয়েছে বলেও জানা গেছে উচ্চপদস্থ সরকারি
কর্মকর্তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে। স্ট্যাটাসে লেখা ছিল,
‘এইমাত্র আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে বের হলাম। ছোট্ট
কিন্তু বিশাল একটি আনন্দের সংবাদ দিচ্ছি। পেপাল
আসছে বাংলাদেশে। সোনালি ব্যাংকের সাথে এমওইউ
চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে গেছে। আগামি ২/৩ মাসের মধ্যেই
কাজ শুরু করে দেবে তারা আমাদের দেশে। এবার
আমাদের বিপ্লব শুরু করার পালা। বিশ্ব জয়ের পালা
এবার। ধন্যবাদ আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক মহোদয়কে।
তিনি আমাকে কয়েকমাস আগে কথা দিয়েছিলেন, কিছু
দিনের মধ্যেই যেভাবেই হোক নিয়ে আসবেন পেপলকে।
সার্থক আমার কল্যাণের যুদ্ধ। এই আনন্দ শেয়ার করুন
সবাইকে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সোনালী ব্যাংকের উর্ধ্বতন
কর্মকর্তা বাংলামেইলকে বলেন, গত মাসে পেপ্যালের
একটি দল সোনালী ব্যাংকে এসে মিটিং করে গেছে।
এটি ছিলো ব্যাংকের সাথে পেপ্যালের কর্মকর্তাদের
প্রথম মিটিং। চুক্তি হবে এটা নিশ্চিত তবে কবে নাগাদ
এই চুক্তি সম্পন্ন হবে সেসময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনেই এই চুক্তি হবে।
দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পেপ্যাল
কার্যক্রম শিগগিরই চালু হোক বলে দাবি দেশের
প্রযুক্তিবিদ ও ফ্রি ল্যান্সারদের।
Home »
online Earning Tips
» পেপ্যাল বাংলাদেশে সেবা চালু করলে সেটা দেশের প্রযুক্তি অঙ্গন এবং প্রযুক্তিপ্রেমী
প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় সুসংবাদ হয়ে আসবে।