আন্টি রিফাত কই ? কেন নিদি ? না
ভার্সিটিতে যাব ওকে অনেক-বার
ফোন দিছি কিন্তু ফোন ধরছে নাতো
তাই ! ওহ দেখ মা তুই বুদ্দুটার-
পাগলটার পিছন ছাড় না হলে তুই ও
পাগল হয়ে যাবি । হি হি হি । দেখ
গিয়ে ওর রুমে শুয়ে আছে ! ওকে
আন্টি! রুমে গিয়ে দেখি ! আহ ! চান্দু
ঘুমাচ্ছে আরাম করে ! ওই রিফাইততা
ওঠ ! ওই রিফাইততা ওঠ ! কুত্তা ! আরে
দূর এই সকাল-সকাল কেরে ! তোর বউ !
তাই তাহলে তো বউকে একটু আদর
করতে হয় বলে নিদি কে জরিয়ে
ধরলাম ! এই ছাড় রিফাত ! এই ছাড়
রিফাত ! কেন তুই না আমার বউ সো
ছাড়বো না একটু আদর করি ? তারপর !
হে বিয়ের পর হবো আদর এখন ছাড় !
তাই ! হুম ! ওকে এখন আমাকে ছাড় !
আর রেডি হ ভার্সিটিতে যাব । ওকে
। আসলে নিদি আর আমার বিয়েটা দু-
বাসা থেকে বাবা-মা রা মিলে করে
ঠিক করছে । আমরা এক-সময় ভালো
বন্ধু ছিলাম আর এখন ভালো বন্ধুত্ত
গভীর ভালোবাসায় পরিনত হয়েছে
কিছু- মাস পর ই আমার আর নিদির
বিয়ে । ভার্সিটিতে গেলাম ক্লাস
শেষ করে । এখন বন্ধুদের সাথে আড্ডা
দিচ্ছি কিছুখন পর নিদি আসলো আর
আমাকে নিয়ে সাবার আরালে নিয়ে
চলে আসলো ।আমি বসে আছি নিদি ও
আমার কাধে মাথা রেখে বসে আছে
আর বলতে লাগলো আমি যদি তোকে
ছেড়ে দূরে কোথাও চলে যাই ! তখন
কি করবি রিফাত? কেন তোকে খুজে
বেড়াবো চারদিক ! যদি খুজে না
পাছ ? তখন কি করবি ? তখন আর কি
অন্য একটা মেয়েকে বিয়ে করে
ফেলবো ! হি হি হি ! মুখটা লাল করে
নিদি জোরালো কন্ঠে রিফাইততা !
তোর খবর আছে কুত্তা তুই মনে মনে এই
চিন্তা করোছ বুঝি ! আরে না রে ! তুই
হারায় গেলে দরকার হলে কলকাতার
গোয়েন্দা ফেলু দা কে দিয়ে তোকে
খুজে বের করবো ! তারপরেও তোকে
খুজে বের করবো ই ! তাই ! হুম রে ! চল
বাসায় যাই আজ বিকালে কোথাও
ঘুরতে যাই ! না আজকে না কালকে !
না আজকে ! না কালকে ! নিদিঃ
ওকে কালকে । আমার আজকে
বিকালে এমনেতেই একটু মার্কেট এ
যেতে হতো ! ওই তাই রে সে জন্যই
তো বলি চান্দু আজকে বিকালে ঘুরতে
যাওয়ার জন্য এত্তো রিকুয়েষ্ট কেন
করছে ! ওকে তোর যাওয়া লাগবে না !
আরে যাবো তো মার্কেটে পাগলি
আজকেই যাব ! সত্যি ! হুম সত্যি !
বিকালে যথা-সময়ে বাসা থেকে বের
হলাম তারপর ঘুরাঘুরি করে মার্কেটে
গেলাম ! মার্কেট করতে গেলাম এমন-
সময় এক বন্ধুর ফোন দরকারি কিছু কাজ
আছে যেতে হবে রে নিদি তুই এক
কাজ কর মার্কেট করে সাবধানে
বাসায় চলে যাইছ ! ওকে ! ওকে । বন্ধুর
কাজটা মিট করে নিদিকে ফোন
দিলাম কিন্তু ফোন অফ ! বেপার কি
আবার নিদি কে ফোন দিলাম ফোন
অফ ! আরে বেপার কি খুব চিন্তায়
পরে গেলাম ! কিছুখন পর নিদির
আম্মুর ফোন বাবা রিফাত তুমি
কোথায় ! কেন ! আর আন্টি আপনি
এত্তো কান্না করছেন কেন ! আন্টি
কান্না স্বর শুনে আমার বুকের বাম
পাশটা কেমন জানি ধুব-ধুব করতে
লাগলো । বাবা তুমি জলদি ঢাকা
মেডিকেল হসপিটালে চলো আসো !
গিয়ে দেখি আমার নিদির আব্বু-আম্মু
কাজিনরা অনেকেই কান্না করছে !
কিন্তু নিদিকে দেখছি না ! তার
মানে নিদির কিছু একটা হইছে !
আন্টি নিদি কই ? মা নিদি কই ?
প্রিয়২৪.কম
বাবা শান্ত হ আজকে রাত্রে
মার্কেট থেকে ফেরার সময় একটা
গাড় দূর-ঘর্টনায় । দূর-ঘর্টনায় নিদির
দু-পা হারিয়ে ফেলছে ! কথটা শুনার
পর বুক ফেটে কান্না আসলো ! তখন মন
চাইছিল নিজের এক-পা টা নিদিকে
দিয়ে দেই । যেন এক পা নিয়ে দু-জনে
মিলে সারাটা জিবন এক সাথে
থাকতে পারি । যেই মানুষকে নিয়ে
অনেক দূর হাটার সপ্ন ছিল যে
মানুষটাকে নিয়ে আমার সুন্দর জীবন
গড়ার লক্ষ্য আর হাজার ও আজানা
চিন্তা ছিল যা সারাটা জীবন বলে
শেষ করার মতো না ! তার আজ এই
রকম অবস্থা এর কষ্ট সহ করার মতো
না ! ৩ মাস পর নিদি অনেকটা সুস্থ
হল ! এখন হুউল চেয়ারে বসে থাকে
সারাক্ষন আর অশ্রু বির্সজন করে !
আমার মা-বাবা বিয়েটা দিবে না
নিদির সাথে একথাটা নিদির আব্বু-
আম্মুকে বলে দেয় ! এই কথাটা নিদি
শুনার পর আরোও কষ্টের পাহাড়ের
তলে চাপা পরে যায় ! কিন্তু আমি
মা-বাবার বিরুদ্ধে নিদি কে বিয়ে
করতে রাজি হই এতে মা-বাবা কেও
আমায় মেনে নিতে পারে না ।
নিদিও আমাকে অনেক বার ফিরিয়ে
দেয় যে বিয়ে করবে না আমায় !
কিন্তু আমি ও জিদ করেছি লাইফে
বিয়ে করলে নিদি কেই করবো ! আর
না হলে করবো ই না । কারনঃ
.
আমি যে মানুষটার মনটাকে
ভালোবেসেছি ওর দেহটাকে নয় !
.
অনেক রিকুয়েষ্ট করার পর নিদি
মানছিল না তারপর নিদিকে
বললামঃ
.
দেখ নিদি আমি তোর দেহকে না
তোকে ভালোবাসি রে তোকে ছাড়া
আমার জীবনে সব শূন্য । তোকে ছাড়া
আমি বাচবো ঠিকিই কিন্তু না
বাচার মতো ! তুই কি আমাকে বিয়ে
করবি না কি সেটা বল ! হুম করবো!
.
আজ আমরা বিয়ে করতে চলেছি জানি
না আমার মা-বাবা আমার এ বিয়েটা
কোন-দিন মেনে নিবে কি না ?
কিন্তু আমি আমার নিদিকে এই
অবস্থায় ও নিজের বউ হিসাবে মেনে
নিতে হাজার বার রাজি । কারনঃ
.
আমি ওর দেহটাকে না ওর মনটা কে
সবচেয়ে বেশি ভালোবেসে ছিলাম ।
বিঃ দ্রঃ ভুল-ত্রুটি ক্ষমার নজরে
দেখবেন ।
Home »
ভালবাসার গল্প - Bangla Love Story
» আমি তোর দেহকে নয় তোকে ভালোবাসি